মোঃ শাকিল হাসান :
ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে হবিগঞ্জের দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সাংবাদিকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ঢাকায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি মিরপুর বিআরটিএ ভবন সংলগ্ন মেইন রাস্তায় সংঘটিত ঘটনায় ইব্রাহিম নামে এক যুবক বাদী হয়ে রাজধানীর কাফরুল থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি হলেন ঢাকা-১২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এছাড়া, ঢাকা-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, ৪২ নং আসামি নবীগঞ্জ উপজেলার শ্রীমতপুর গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আনিছুজ্জামান চৌধুরী রতন, ৪৪ নং আসামি মাধবপুর উপজেলার মোছলেহউদ্দিনের ছেলে ১০নং ছাতিয়াইন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা মিনহাজ উদ্দিন চৌধুরী কাছেদ, ৪৮ নং আসামি মাধবপুর উপজেলার বেজুড়া গ্রামের বাসিন্দা জগদীশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ খান ৫০ নং আসামি মাধবপুর উপজেলার ষন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ শামীম আহমেদ, ৫২ নং আসামি ছাতিয়াইন ইউনিয়নের আকেপুর গ্রামের বাসিন্দা ও যুবলীগ নেতা জাবেদ মিয়া, ৫৩ নং আসামি দক্ষিণ বেজুড়া গ্রামের বাসিন্দা যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও সাংবাদিক অলিদ মিয়া, ৫৫ নং আসামি হবিগঞ্জ পৌরসভার বগলা বাজার এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক মোহাম্মদ নাহিজ মিয়া, ৫৬ নং আসামি মাধবপুর উপজেলার ছাতিয়াইন ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক আবু নাছের জামাল, ৫৭ নং আসামি বেলঘর গ্রামের বাসিন্দা এখলাছুজ্জামান ভূঁইয়া, ৫৯ নং আসামি নারাইনপুর গ্রামের বাসিন্দা ও নোয়াপাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রব এনাম, ৬১ নং আসামি জগদীশপুর গ্রামের বাসিন্দা এম এম গউস।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৪ আগস্ট বিকাল ৪টায় মিরপুর বিআরটিএ ভবনের সামনে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো, বোমা বিস্ফোরণ ও তাদের মারধরের ঘটনা ঘটে।
বাদী ইব্রাহিম, যিনি মিরপুর পল্লবী এলাকার বাসিন্দা, তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা এই ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মামলাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা মামলার তদন্ত করছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















