রিফাত আরেফিন (যশোর ব্যুরো) : যশোর রেলস্টেশনে আলোচিত জুম্মান হত্যাকান্ডের অভিযোগে তিন আসামীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। এদিকে তদন্তে জুম্মান হত্যা মামলায় নতুন মোড় নিয়েছে। মোবাইল ফোনে কল করে তাকে ডেকে নেয় ভাইপো রাকিব। পাওনা টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা এঁটে রাকিব তার মাদক সিণ্ডিকেটের চিহিৃত সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে ছুরিকাঘাতে জখম করে কিন্তু মৃত্যু তাকে ছুঁতে পারেনি। ছুরিকাঘাতে জখমের পর জুম্মান মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় ভাইপো রাকিবসহ বেশ কয়েকজন চিহিৃত সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে সেখানে যায় এবং হাসপাতালে আনার কথা বলে ইজিবাইকে তুলে নেয়। হাসপাতালে পৌঁছাতে সর্বোচ্চ ৫ মিনিট লাগতে পারে কিন্তু তারা হাসপাতালে পৌঁছায় আধা ঘন্টা পর। স্বজনদের অভিযোগ ইজিবাইকের ভেতর শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে ভাইপো রাকিব গং। হাসপাতালে জুম্মানের স্বজনদের জড়িয়ে ধরে কান্না ও হাম্বি-তম্বি সবই ছিল ‘নাটক’-এই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন মামলার বাদি নিহতের ভাই মামুন।
সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগ করেন। তিনি অভিযোগে বলেন-ভাইপো রাকিবের মা’র কাছে লক্ষাধিক টাকা পাওনা রয়েছে। ঘটনার দিন রাকিবের মা ১০ হাজার টাকা দিয়ে কিছু সময় চান। ওইদিন (শনিবার) সন্ধ্যায় প্রথমে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয়, যা সিসিটিভি ফুটেজে সনাক্ত হয়েছে। কিন্তু জুম্মান মরেনি জানতে পেরে ভাইপো রাকিব তার চেলাবেলা নিয়ে জুম্মানকে মোবাইল ফোনে কথা বলা অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার কথা ইজিবাইকে তুলে নেয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে শ্বাসরোধে মৃত্যু নিশ্চিত করে আধা ঘন্টা পর হাসপাতালে নেয়। চিকিৎসক জুম্মানকে মৃত ঘোষণার পর খুনিরা কান্নাকাটি আর হাম্বি-তাম্বি করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেয়। পরবর্তীতে প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন বলে দাবী করেন নিহতের ভাই ও মামলার বাদী মামুন। তার দাবি পাওনা টাকা না দেয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনি ভাইপো রাকিবসহ মাদক সিণ্ডিকেটের ১৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তারা হলো-শংকরপুর পশ্চিম পাড়ার ভাইপো রাকিব, রেলগেট এলাকার ইমন, চাঁচড়া রায়পাড়ার প্রিন্স, রনি, সাগর, সজীব, শাহিন, বেজপাড়া কবরস্থান রোডের সবুজ, বেজপাড়া ফুড গোডাউন এলাকার শুভ, খড়কি কলাবাগান এলাকার ছোট রবি ওরফে পিচ্চি রবি, রেল বাজার এলাকার রুবেল, শংকরপুর জমাদ্দার পাড়ার বিপ্লব ও শহরতলীর পুলেরহাটের মোহাম্মদ।
এদিকে, র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্প সদস্যরা রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি যশোর শহরের ফুডগোডাউন এলাকার মাদক কারবারী ও চিহিৃত সন্ত্রাসী শুভ (৩২), বেজপাড়া বিহারী পট্টির সবুজ (২৮) ও পুলেরহাট কৃষ্ণবাটির মোহাম্মদ (২২) কে গ্রেফতার করেছে। এরমধ্যে শুভ’র এক পা নেই। বছর কয়েক আগে পুলিশের ‘কথিত ক্রসফায়ারে’ এক পায়ের পুরো অংশ কাটা পড়ে তার। সেই থেকে ক্রাচে ভর দিয়ে চলাফেরা করে। যদিও সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারে তার জড়িত থাকার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে র্যাব অফিসে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়-কার পা আছে, কী নেই-তা আমাদের জানার কথা না। মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে তাকেসহ ৩ জনকে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বিষয়ে রেলওয়ে থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেয়া হয়।
র্যাব-৬ যশোরের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী অধিনায়ক এএসপি ফয়সাল তানভির জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে টিবি ক্লিনিক মোড় এলাকা থেকে শুভ ও সবুজকে প্রথমে আটক করা হয়। পরবর্তীতে শহরের কুইন্স হাসপাতালের সামনে থেকে আরেক আসামি মোহাম্মদকে আটক করা হয়। অন্যদের গ্রেফতারে র্যাব-পুলিশসহ নিরাপত্তায় বেশকিছু সংস্থা জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান র্যাবের এই উর্দ্ধতন কর্মকর্তা। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী জুম্মানের সাথে তাদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা জুম্মানকে হত্যা করেছে বলে জানান র্যাব-৬ যশোরের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী অধিনায়ক এএসপি ফয়সাল তানভির।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি যশোর রেলস্টেশন এলাকায় জুম্মান (৩৪) খুন হয়। তার বিরুদ্ধে অনন্ত এক ডজন মামলা রয়েছে বলে ঘটনার পর জানায় পুলিশ।




















