বিশেষ প্রতিনিধি : রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় শাহিন (৩০) নামের এক যুবককে পূর্বশক্রতার জের ধরে ধারালো চাপাতি ও লাঠিসোটা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমন চালিয়ে গুরুতর জখম করেছে দূর্বৃত্তরা। থানাধীন রায়ের বাজার ক্যান্সার গলিতে গত মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিকাল ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার শিকার শাহিন বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসি) ১০২ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে ভিকটিম শাহিনের স্ত্রী লাইলি বেগম পরদিন বুধবার মোহাম্মদপুর থানায় উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী, ১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩২৬/৫০৬ নং ধারায় যার মামলা নম্বর-৩২, তারিখ-০৩/০৪/২০২৪ খ্রি.।
মামলা সূত্রে জানা যায়, সিনেমা স্টাইলে এই কিলিং মিশনে অংশ নেয়া খলিল (২৭), কাকলী (১৭), কাজলী (৩০), চায়না ইমন (১৮) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জন মিলে প্রথমে ভিকটিম শাহিনকে হত্যার উদ্দেশ্যে লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে তার সমস্ত শরীর জখম করে। তাদের উপর্যুপরি আঘাতে সে ডাকচিৎকার করতে থাকলে চায়না ইমন তার হাতে থাকা ধারালো চাপাতি দিয়ে শাহিনের পিঠে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় শাহিন রাস্তার উপর পড়ে গেলে চায়না ইমন ভিকটিমের ডান হাত চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করতে থাকাবস্থায় পথচারী লোকজন আগাইয়া আসলে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দূর্বৃত্তরা চলে যায়।
ঘটনার বিবরণে আরো জানা যায় যে, মামলার বাদী লাইলি বেগম বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে কাজ করে। সে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে জনৈক সবুজ মুন্সির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। সবুজ মুন্সি বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িত থাকায় এবং তার সাথে বনিবনা না হওয়ায় ২০২৩ খ্রিস্টাব্দে লাইলি বেগম তাকে ডিভোর্স দিয়ে সন্তানদের নিয়ে পৃথকভাবে বসবাস করতে থাকে। পরবর্তীতে একই বছর সে মামলার ভিকটিম শাহিনকে বিয়ে করে। দ্বিতীয় বিয়ে করার পর থেকে লাইলি বেগমের সাবেক স্বামী সবুজ মুন্সিসহ তার নিকট আত্মীয়-স্বজন তাকে ও তার দ্বিতীয় স্বামী শাহিনকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (১ এপ্রিল) রাত ১০ টার দিকে লাইলি বেগম তার বর্তমান ঠিকানা মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকায় নাদের খানের বাড়ির সামনে অবস্থানকালে অভিযুক্ত খলিল, কাজলী ও কাকলী তাকে ও তার বর্তমান স্বামীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। পরদিন বিকাল ৩ টার দিকে বাদীর স্বামী পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরার পথে রায়ের বাজার ক্যান্সার গলি পর্যন্ত পৌঁছলে অভিযুক্তরা তার স্বামীর উপর এই নারকীয় হামলা চালায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসাধীন ভিকটিম শাহিনের হাতে ইতোমধ্যে পচন ধরেছে, যা ক্রমশ বর্ধমান। এ অবস্থায় তার শরীরকে পচন থেকে রক্ষা করতে হলে অপারেশনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্থ হাতটি শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করার কথা ভাবছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক সার্জন (ভাস্কুলার) ডা. মোহাম্মদ রওনাক খুরশীদ শাহিনের হাতের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে তাকে বড় ধরণের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের পরামর্শ দিয়েছেন। এই প্রতিবেদন লেখার সময় (৮ এপ্রিল, ভোর ৪ টা) শাহিনকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে এই প্রতিবেদককে জানান সেখানে অবস্থান করা শাহিনের ভাগনী মীম। হয়তো কিছুক্ষণ পরেই শাহিনের শরীর থেকে তার ডান হাতটি কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দেয়া হবে.. .।
এদিকে থানায় মামলা হওয়ার পর আসামীরা আটক হলেও বর্তমানে জামিনে ছাড়া পেয়ে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি ও হুমকি-ধামকি দিয়ে বেড়াচ্ছে বলে আভিযোগ রয়েছে মামলার বাদী লাইলি বেগমের। ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান তিনি।




















