সুমন মোহাম্মদ, ঢাকা॥ জিন্নাত আরা আয়েশা নিজের বাড়ি ছেড়ে এখন পথে পথে দিন-রাত পার করছেন, নিজের বাড়ি ছেড়ে এখন ঘুরছে পথে পথে।
আজ ২৩ শে জানুয়ারি ইং রোজ সোমবার সকাল ১১:১০ মিনিটে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির উদ্যোগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন বৃদ্ধ মা। মাকে মারধর করে ফ্লাট দখল করেছে ছেলে মেয়েরা, কলাবাগান থানা পুলিশ কোন সহযোগিতা করেনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাড়ির বিধবা স্ত্রী ৯০ বছরের মধ্যে জিন্নাত আরা আয়েশা খাতুন কে।
জিন্নাত আরা আয়েশা খাতুনের নিজের নামীয় হোল্ডিং ও নিজ নামিও ফ্ল্যাট ২৩ নং ফ্রী স্কুল স্ট্রীট হাতিরপুল কলাবাগান থেকে গত ২৩ শে ডিসেম্বর তার অনুপস্থিতিতে তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমারিতে রক্ষিত নগদ ৭ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা ও সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ অলঙ্কারসহ অন্যান্য জিনিসপত্র লুটপাট করে তার মেয়ে হাসিনা বেগম, নাতি হোসনেয়ারা রোজী, মেয়ে ফাতেমা বেগম, ছেলে আব্দুল খালেক, নাতি অলিউল্লাহর রঞ্জন, নাতনী রোজিসহ সহ চার নাতি।
সিসিটিভি ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজ নষ্ট করেছে ফাতেমা বেগম। কাছে থাকা আই টি বিশেষজ্ঞ রেজাউল করিম এ বিষয়ে কলাবাগান থানায় এবং স্থানীয় কাউন্সিলর এর কাছে গিয়ে কোন প্রতিকার না পেয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ কমিশনার এবং উপ পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন তার আরেক মেয়ে মোসা নাসিমা বেগম। বর্তমানে বীর মুক্তিযুদ্ধার স্ত্রী বাইরে প্রচন্ড শীতে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির চেয়ারম্যান মোঃ মনজুরুল হোসেন ঈসা সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জিন্নাত আরা আয়েশা খাতুন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আমার এখন মৃত্যু শেষ সময় এসে গেছে এখনো যে বেঁচে আছি বিশ্বাস করতে পারছি না মরে গেলেই মনে হয় ভালো হতো তাহলে আজকে এই দিনটি দেখতে হতো না, আর আপনাদের কাছে এই রাস্তায় নেমে হাজির হতাম না।”
অনেক দুঃখ কষ্ট নিয়ে,আপনাদের কাছে উপস্থিত হয়েছি। আমি যাদেরকে গর্ভে ধারণ করেছি তাদের বিরুদ্ধে আজ আমার অভিযোগ করতে হচ্ছে। আপনারা যারা উপস্থিত হয়েছেন আপনারা শুনেছেন মাকে বাবাকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয় সম্পত্তির লোভে আজ আমি তারে উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আমার স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী মৃত্যুর আগে হাতিরপূলে আমার নামে একটি সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন করে দেন আমি সেই সম্পত্তি আমার সন্তানদেরকে নিয়েই ডেভলপারের মাধ্যমে দশ তালা ভবন তৈরি করি। সেখানে আমার সন্তানরাই থাকে আমি শুধু তাদের নামে লিখে না দেয়ার কারণে আজ আমি যে ফ্ল্যাটটিতে থাকতাম সেই ফ্ল্যাটটির তালা ভেঙে লুটপাট করে দখল করে নিয়েছে। আমি অবস্থান নিতে গেলে আমার সন্তান ও নাতিনরাই আমার উপর আঘাত করেছে, আমি এমনিতে প্রচন্ড অসুস্থ তারপরও এই আঘাত আমি কিভাবে সহ্য করব আমি মেনে নিতে পারছি না। আমি চাই আর কোন মা-বাবা যেন এইভাবে ছেলেমেয়েদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই জন্যই আজ আমি রাস্তায় নামলাম।




















