আশরাফুজ্জামান,গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি॥ দেশ জুড়ে চলছে বই উৎসব। কোমল মতি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিতে যখন চেষ্টা করছে প্রশাসন ও শিক্ষা অধিদপ্তর। ঠিক তখনই ২০২২/২০২৩ সালের পাঠ্য বই বিক্রির ঘটনা ঘটে কাশিয়ানি উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে।
মাহমুদ পুর ইউনিয়ন এর শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ২০২২ ও ২০২৩ শিক্ষা বর্ষের বিভিন্ন শ্রেনীর সরকারি পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগ বন্ধু বিশ্বাস উক্ত স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ভাঙ্গাড়ি ব্যাবসায়ী জাহাঙ্গীর ও কওসার এর নিকট ৩০কেজি বই ৭৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকা বাসী।
গতকাল ২৩/০১/২০২৩ দুপুরে ২ টার সময় স্কুল সংলগ্ন মাঠে ভাঙ্গাড়ী ব্যাবসায়ীর ভ্যানে নতুন বই দেখে চ্যালেঞ্জ করলে নতুন বই বিক্রির ঘটনা ধরা পড়ে। এ সময় এলাকার লোকজন ভাঙ্গারীওয়ালাদের আটক করে কাশিয়ানি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে অবহিত করলে ইউএনও মহোদয় বইগুলো ভাঙ্গারীওয়ালাদের নিকট থেকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পারভেজ এর নিকট গচ্ছিত রাখার নির্দেশনা দেন। চলতি বছরের ২০২৩ সালের ১১টি নবম-দশম শ্রেনীর বই সহ ২০২২ সালের বিভিন্ন শ্রেনীর সর্বমোট ২০৬টি সরকারি পাঠ্যবই ভাঙ্গারীওয়ালাদের নিকট থেকে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের নিকট গচ্ছিত রাখা হয় । বিকালে মাহমুদপুর ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডের চৌকিদার মজিবর বইগুলো ইউএনও অফিসে জমা দেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগো বন্ধু বিশ্বাস সাংবাদিকদের জানান চার বৎসর যাবৎ স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দ্বায়িত্ব পালন করছি। এ পর্যন্ত এধরণের কোন অনিয়ম আমি করছি বলে এলাকা বাসী বলতে পারবে না এবং দাবী করেন কোনও অবস্থাতেই বই বিক্রি করিনি। এলাকায় গ্রাম্য দলাদলির জেরে তাকে ফাসানো হয়েছে ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি ছাত্র এসে বলে ” শিক্ষকরা আমাদের বই না দিয়ে বই হকারের নিকট বিক্রি করে দিচ্ছে ” । এ খবর শুনে এলাকার লোকজন ভাঙ্গারীওয়ালাদের আটক করে ইউএনওকে ফোন দেন এবং বই রেখে ভাঙ্গারীওয়ালাকে ছেড়ে দেন।




















